সংবাদ শিরোনাম:
সীমান্তে বিজিবির অভিযানে অর্ধকোটি টাকার ভারতীয় মালামাল জব্দ, আটক-২ ভূরুঙ্গামারীতে ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা পরিচয়ে ক্যাম্পাসে অবৈধ অটোরিকশা প্রবেশ, জাবি শিক্ষার্থীসহ তিনজন আহত ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের দাবীতে আমতলীতে গণ অনশণ ভূরুঙ্গামারীতে মুভমেন্ট ফর পাঙ্কচুয়ালিটির বর্ষপূর্তি উদযাপন ভূরুঙ্গামারীর শালজোড়ে সেতুর অভাবে ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ দেবীগঞ্জ-ডোমারে চাঁদাবাজি বন্ধে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের জরুরি পদক্ষেপের দাবি জবিতে শুরু হতে যাচ্ছে ৯ম বার্ষিক এ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা দেবীগঞ্জে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ ববি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ডিজিটাল মিডিয়া ল্যাব উদ্বোধন
নেত্রকোনায় ভুয়া বিল-ভাউচারে টাকা উত্তোলনের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে মাউশি

নেত্রকোনায় ভুয়া বিল-ভাউচারে টাকা উত্তোলনের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে মাউশি

সোহেল খান দূর্জয়- নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সরঞ্জামাদি না কিনে ভুয়া বিল-ভাউচারে টাকা উত্তোলনের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার সরঞ্জামাদি না কিনে ভুয়া বিল ভাউচারে টাকা উত্তোলন করার ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ হলে ঘটনা তদন্তের উদ্যোগ নেয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। শনিবার (১৪ মার্চ) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপপরিচালক মোহা.নাসির উদ্দীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ঠিকাদার আর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সমঝোতায় কোন ধরনের মালমাল না কিনেই সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ভুয়া বিল ভাউচারে উত্তোলন করা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়টি নানা উপকরণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

সম্প্রতি বিদ্যালয়ের নানা উপকরণ কেনাকাটায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। তবে উপকরণ ক্রয় না করে ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে টাকা তুলে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং ঠিকাদার ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ উপকরণ ক্রয় না করে নগদ টাকা তুলে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে ঠিকাদার আল আমিন বলেন- বিদ্যালয়ের ক্রয় কমিটির হাতে সকল উপকরণ বুঝিয়ে দিয়ে তারপর প্রত্যয়ন নিয়েই টাকা বিল উত্তোলন করেছেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ধরণের সরঞ্জামাদি কেনাকাটার জন্য পাঁচ লাখ ৬১ হাজার টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে বিদ্যালয়ের সাইন্স ল্যাবের নানা রাসায়নিক, বইপুস্তক, গবেষণা সরঞ্জামাদি, শিক্ষা উপরকণ, ক্রীড়া সামগ্রীসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি সরবরাহ করার কথা ছিল। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে গত ২২ ডিসেম্বর কার্যাদেশ পায় নেত্রকোনার মেসার্স ইউনিপ্যাক এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানকে ৭ দিনের মধ্যে উপকরণ সরবার করতে বলা হয়। এই প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী আল আমিন নামে এক ব্যক্তি। এদিকে সরঞ্জামাদি বুঝে নিতে নিয়মানুযায়ী বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের সমন্বয়ে কয়েকটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের সাথে সমঝোতা করে সরঞ্জামাদি না কিনেই ভুয়া বিল ভাউচার জমা দেয় ঠিকাদার। আর ক্রয় সংক্রান্ত উপ-কমিটির সদস্যদের কাছ থেকে সরঞ্জামাদি বুঝে পাওয়ার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে সমঝোতায় ঠিকাদারকে সরবারহের প্রত্যায়ন দেন প্রধান শিক্ষক। ওই প্রত্যয়ন জমা দিয়ে হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি ভ্যাট-ট্যাক্স বাদে চার লাখ ৮০ হাজার ২৫৫ টাকা বিল তুলে নেন ঠিকাদার। ফলে সরঞ্জামাদি বঞ্চিত হয় বিদ্যালয়টি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক বলেন, নিয়মানুযায়ী বিদ্যালয়ের ল্যাবের উপকরণ, বই পুস্তকসহ নানা উপকরণ ঠিকাদার সরবরাহ করবে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক ঠিকদারের সাথে সমঝোতা করে উপকরণ না কিনেই ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে টাকা তুলে ফেলেছেন। এখন পর্যন্ত একটি উপকরণও কেনা হয়নি। ক্রয় সংক্রান্ত উপ-কমিটিতেও প্রধান শিক্ষকের আস্থাভাজনদের রাখা হয়েছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। এখন প্রধান শিক্ষক বলছেন খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কিছু টাকা ব্যয় করেছেন। মূলত এসব কাজে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা তুলেই ব্যয় করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও ক্রয় সংক্রান্ত উপ-কমিটির সদস্য আজিজুল হক বলেন, কমিটির সদস্য হলেও এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কোন মালামালও বুঝে পাইনি। প্রধান শিক্ষকের কথা মতো স্বাক্ষর করেছি মাত্র। এছাড়া আর কিছু জানি না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার আল আমিন বলেন, যথাযথ নিয়মে কমিটির সামনে সকল মালামাল বুঝিয়ে দিয়ে প্রত্যায়ন নিয়ে টাকা উত্তোলন করেছি। নিয়মের কোন ব্যত্যয় ঘটেনি।

তবে এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, উপকরণ কেনার দরপত্র হলেও ঠিকাদার কোন উপকরণ দেয়নি। আমরা নগদ টাকা তুলে নিয়েছি। খেলাধুলা-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কিছু টাকা খরচ করা হয়েছে। কোন উপকরণ এখনো কেনা হয়নি। পরে দরকার হলে উপকরণ কেনা হবে। বিষয়টি অনিয়ম কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাঁর জানা নেই। মঙ্গলবার বিষয়টি অবহিত করলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগের ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপপরিচালক মোহা.নাসির উদ্দীন বলেন, দরপত্র অনুযায়ী ঠিকাদার বিদ্যালয়ে মালামাল সরবরাহ করবেন। নগদ টাকা উত্তোলন নিয়মবহির্ভূত। এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি

Design & Development BY : ThemeNeed.com